দ্রুত বেরিয়ে যাওয়ার জন্য Esc চাপুন অথবা বোতামটি ট্যাপ করুন
শিশুদের সুরক্ষা
শিশু বাড়ি ছাড়ার আগে বা কম বয়সে বিয়ের আগে বাবা-মায়ের জন্য যাচাই, অনলাইনে কেউ ছবি বা গোপন কথা চাইলে তরুণদের জন্য সাহায্য, আর কোনো শিশু বিপদে থাকতে পারে মনে হলে কী করবেন।
শিশু বাড়ি ছাড়ার আগে
কেউ কি স্কুল, কাজ বা ভালো জীবনের জন্য শিশুকে নিয়ে যেতে চায়? আগে যাচাই করুন।
শিশুর জন্য টাকা বা উপহার পরে এমন ঋণ হতে পারে, যা শোধ করতে শিশুকে কাজে লাগানো হয়।
শিশু পাচারকারীরা অনেক সময় পরিবারের অল্প চেনা কেউ হয়: প্রতিবেশী, দূরাত্মীয়, শিক্ষক বা দালাল।
আসল স্কুলের নাম, ঠিকানা ও ফোন নম্বর থাকে, যা আপনি নিজে যাচাই করতে পারেন।
আপনি যদি ফোন করতে না পারেন বা গিয়ে দেখতে না পারেন, কেউ জানবে না শিশুটি আঘাত পেয়েছে কি না, বা তাকে কাজ করানো হচ্ছে কি না।
যার হাতে শিশুর কাগজপত্র থাকে, সে শিশুকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। আসল কাগজপত্র নিজের কাছেই রাখুন।
বাড়ি থেকে দূরে থাকলে, শিশু সাহায্য চাইতে পারে না বা একা ফিরে আসতে পারে না।
শিশুদের স্কুলের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, তারপর তাদের দীর্ঘ সময় খুব কম বা কোনো মজুরি ছাড়া কাজ করানো হয়।
সৎ মানুষ কখনও শিশুর যাত্রা গোপন রাখতে বলে না, বা শিশুর বয়স নিয়ে মিথ্যা বলতে বলে না।
পরিবারের নিরাপত্তা পরিকল্পনা
আগে নিজে জায়গাটা দেখে আসুন, বা সেখানে যাকে ভরসা করেন তাকে গিয়ে দেখে আসতে বলুন।
লোকটি আর জায়গাটির পুরো নাম, ঠিকানা ও ফোন নম্বর লিখে নিন। নিজে স্কুলে ফোন করুন।
প্রতি সপ্তাহে একবার কথা বলার সময় ঠিক করুন, আর একটি গোপন কোড শব্দ ঠিক করুন যা শিশু বিপদে বলবে।
শিশুর আসল কাগজপত্র নিজের কাছে রাখুন। শুধু কপি দিন।
শিশুর জন্য কখনও টাকা বা ধার নেবেন না। শিশু কোনো ধার নয়।
কাগজপত্র আর স্কুল একটি শিশুকে সুরক্ষা দেয়
প্রতিটি শিশুর জন্ম নিবন্ধন করুন। জন্ম সনদ শিশুর বয়স প্রমাণ করে: এটি বাল্যবিবাহ আর শিশুশ্রম থামাতে সাহায্য করে, আর শিশুকে স্কুল, চিকিৎসা আর সহায়তা পেতে সাহায্য করে। আপনার স্থানীয় সরকার অফিস বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জিজ্ঞাসা করুন।
শিশুদের স্কুলে রাখুন। স্কুল বা আপনার স্থানীয় সরকার অফিসে জিজ্ঞাসা করুন স্কুল খরচে সহায়তা আছে কি না, যেমন ফি মওকুফ, স্কুলের খাবার বা পরিবারের জন্য সহায়তা। অনেক দেশে এমন ব্যবস্থা আছে।
১৮ পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। আরও কয়েক বছরের পড়াশোনা একটি পুরো জীবন বদলে দিতে পারে।
যুবক বা যুবতী কী চায়, তাকে একা ডেকে চাপ ছাড়া জিজ্ঞেস করুন।
একজন শিক্ষক, স্বাস্থ্যকর্মী, ভরসার ধর্মীয় নেতা, বা শিশু হেল্পলাইনের সঙ্গে কথা বলুন।
শিশুর জন্য কখনও টাকা নেবেন না, বা কারও ধার শোধ নেওয়াও নয়।
বেশিরভাগ দেশে বিয়ের বয়স ১৮।
গেম ও চ্যাটে নিরাপদ থাকুন
গেম আর চ্যাট অ্যাপ মজার হতে পারে। কিছু বড় মানুষ এগুলো দিয়ে তরুণদের ধোঁকা দেয়। তাদের ফাঁদ চিনুন:
অনলাইনে সবাই নিজের কথা মতো মানুষ নাও হতে পারে। বয়স আর ছবি নকল হতে পারে।
অচেনা কারও উপহার, ডায়মন্ড, কয়েন, স্কিন বা ফোন ক্রেডিট হলো ফাঁদ—তাকে শোধ দিতে হবে বলে মনে করানোর জন্য।
যে কেউ যদি বলে বাবা–মায়ের কাছ থেকে লুকিয়ে রাখতে, সে নিরাপদ নয়।
দেহের ছবি কখনো পাঠাবেন না, পছন্দের কারও কাছেও না। ছবি কপি হয়ে আপনাকে ভয় দেখাতে ব্যবহার হতে পারে।
চ্যাট গেম বা অ্যাপের ভেতরেই রাখুন। কেউ যদি প্রাইভেট চ্যাট বা ভিডিও কলে নিতে চায়, সাবধানে থাকুন।
অনলাইনে পরিচিত কারও সঙ্গে একা কখনো দেখা করবেন না। আগে বাবা–মাকে বলুন।
আপনি সবসময় না বলতে পারেন, ব্লক করতে পারেন, রিপোর্ট করতে পারেন। যে আপনাকে ভয় দেখায়, তার সঙ্গে ভদ্র হতে হবে না।
কিছু ভুল মনে হলে, কোনো নিরাপদ বড়কে বলুন। আপনি সমস্যায় পড়বেন না।
কেউ আমার ছবি দিয়ে হুমকি দিচ্ছে
প্রথমে: এটা আপনার দোষ না, আর আপনি সমস্যায় পড়েননি। অনেক তরুণ এটার মুখোমুখি হয়, আর এটা থামানো যায়।
টাকা দেবেন না এবং আর কিছু পাঠাবেন না। টাকা দিলে প্রায়ই আরও চাওয়া শুরু হয়।
উত্তর দেওয়া বন্ধ করুন। তর্ক বা অনুরোধ করবেন না।
হুমকির মেসেজ আর অ্যাকাউন্টের নামের স্ক্রিনশট নিন। কখনো ছবিগুলোর স্ক্রিনশট নেবেন না।
অ্যাপে অ্যাকাউন্টটি ব্লক ও রিপোর্ট করুন।
আজই এক নিরাপদ বড়কে বলুন: মা-বাবা, শিক্ষক বা ভরসার আত্মীয়।
নিজেকে আঘাত করার কথা ভাবছেন? এখনই হেল্পলাইনে কল করুন বা কাউকে বলুন। আপনার জীবন কোনো ছবির থেকেও বেশি মূল্যবান।
ছবি বা ভিডিওতে কি আপনার বয়স ১৮–র নিচে ছিল?Take It Down হলো একটি ফ্রি সেবা, যখন নগ্ন বা যৌন ছবি ও ভিডিও তোলা হয়েছিল 18 বছর হওয়ার আগে। এটি অনেক অ্যাপে ছড়ানো থামাতে সাহায্য করে, আর আপনার ছবি আপনার ফোনেই থাকে। Take It Down খুলুন ↗
ছবিতে থাকা ব্যক্তি কি 18 বা তার বেশি?StopNCII হলো একটি ফ্রি সেবা, যা ঘনিষ্ঠ ছবি অনেক অ্যাপে শেয়ার হওয়া থামাতে সাহায্য করে। আপনার ছবি আপনার ফোনেই থাকে। StopNCII খুলুন ↗
আপনি পুলিশকে বা কোনো শিশু সহায়তা হেল্পলাইনে রিপোর্ট করতে পারেন। আপনার স্ক্রিনশট নিয়ে যান।
কোনো শিশু বিপদে থাকতে পারে
যে লক্ষণগুলো দেখে বুঝতে পারেন কোনো শিশুকে পাচার বা শোষণ করা হচ্ছে:
দীর্ঘ সময় কাজ করে, রাতে কাজ করে, বা স্কুলে যাওয়ার বদলে কাজ করে
সবসময় কোনো বয়স্কই শিশুর হয়ে কথা বলে, বা শিশুকে কখনো একা থাকতে দেয় না
ভীত, ক্ষুধার্ত বা খুব ক্লান্ত দেখায়, বা এমন আঘাত আছে যার ব্যাখ্যা কেউ দেয় না
পরিবার নয় এমন লোকদের সঙ্গে থাকে এবং বাড়ির সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই
নিজের কোনো কাগজপত্র নেই, বা বলে যে টাকা ধার আছে
একজন বয়স্ক তাকে নিয়ন্ত্রণ করে, প্রকাশ্যে বা অনলাইনে
কি করবেন
শিশুটি যদি এখনই বিপদে থাকে, জরুরি নম্বরে ফোন করুন।
বড়দের সঙ্গে ঝগড়া করবেন না বা নিজে থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করতে যাবেন না। এতে শিশুটি আরও বিপদে পড়তে পারে।
আপনি যা দেখেছেন লিখে রাখুন: কখন, কোথায়, আর শিশু ও বড়দের চেহারা কেমন।
শিশু সহায়তা হেল্পলাইন বা পুলিশকে ফোন করুন, বা নিচে রিপোর্ট লিখুন।